ভিসা ছাড়া যুক্তরাজ্য ভ্রমণ: এই দেশগুলো না জানলে নিশ্চিত পস্তাবেন, জানলে চমকে যাবেন!

webmaster

비자 없이 영국 여행 가능한 국가 - **Prompt 1: European Union Citizen enjoying London**
    A vibrant, high-definition photograph of a ...

বন্ধুরা, ভ্রমণপ্রেমী মন নিয়ে যদি আপনারা ইউকে (UK) ঘোরার স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু ভিসার জটিলতার কথা ভেবে পিছিয়ে আসেন, তাহলে আজকের পোস্টটা আপনাদের জন্য একেবারে অমৃত সমান!

জানেন কি, বিশ্বের বেশ কিছু দেশ আছে, যাদের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই গ্রেট ব্রিটেনের জমিতে পা রাখতে পারেন? আমার নিজেরও যখন প্রথম এই তথ্যটা হাতে আসে, তখন সত্যি বলতে কি, আমি নিজেও চমকে গিয়েছিলাম!

ভাবুন তো, বহুদিনের স্বপ্নপূরণের সুযোগ যদি ভিসা নামক কঠিন ধাপটি এড়িয়েই চলে আসে, তাহলে তার চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে? এই সুযোগ শুধু আপনার খরচই কমাবে না, বরং যাত্রার পরিকল্পনাকেও আরও সহজ করে তুলবে। চলুন, আর দেরি না করে বিস্তারিতভাবে জেনে নিই, কোন কোন ভাগ্যবান দেশের নাগরিকরা এই অসাধারণ সুবিধাটি উপভোগ করতে পারছেন!

ইউকে সফরের পথে ভিসা-মুক্ত স্বাধীনতা: এক দারুণ সুযোগ!

비자 없이 영국 여행 가능한 국가 - **Prompt 1: European Union Citizen enjoying London**
    A vibrant, high-definition photograph of a ...

আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যখনই ইউকে ভ্রমণের কথা ওঠে, প্রথমেই মাথায় আসে ভিসার এক লম্বা চওড়া প্রক্রিয়া। কিন্তু জানেন কি, এই ধারণাটা সবার জন্য একরকম নয়?

বিশ্বের কিছু দেশের নাগরিকরা চাইলেই ভিসা ছাড়াই গ্রেট ব্রিটেনের মনোমুগ্ধকর ল্যান্ডস্কেপ আর ঐতিহাসিক শহরে পা রাখতে পারেন! এটা শুনে প্রথমে আমিও থমকে গিয়েছিলাম, কারণ আমাদের মতো মানুষদের জন্য ভিসা মানেই তো একটা পাহাড় সমান চাপ। ভাবুন তো, ভিসা ফি, ইন্টারভিউ আর কাগজপত্র জোগাড় করার যে ঝক্কি, তা যদি এড়িয়ে যাওয়া যায়, তাহলে ভ্রমণের আনন্দটা কত গুণ বেড়ে যায়!

এই সুযোগ শুধু সময়েরই সাশ্রয় করে না, বরং আপনার পকেটের ওপরও চাপ কমায়। আমার একজন বন্ধু একবার যুক্তরাজ্য ভ্রমণ করতে গিয়ে এই সুবিধার কারণে এক অন্যরকম স্বাধীনতা অনুভব করেছিল, তার গল্প শুনে মনে হয়েছিল, ইশ্‌, আমাদেরও যদি এমন সুযোগ থাকত!

এই সুবিধাগুলো আসলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও সাবলীল এবং স্বতঃস্ফূর্ত করে তোলে।

ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকারের গুরুত্ব

ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকারের গুরুত্ব কেবল সময় বা অর্থ সাশ্রয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে পর্যটকরা যেকোনো পরিকল্পনা হঠাৎ করে করেই ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা দিতে পারেন, যা অনেক সময় স্পন্টেনিয়াস ট্রিপের জন্য খুবই উপকারী। যখন আপনি জানেন যে, আপনাকে মাসের পর মাস ভিসা অফিসের দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না, তখন ভ্রমণের প্রতি আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। এতে বিশেষ করে যারা ঘন ঘন ভ্রমণ করেন বা অল্প সময়ের জন্য কোনো কাজ বা সপরিবারে ঘোরার জন্য ইউকেতে যেতে চান, তাদের জন্য এটা এক বিশাল সুবিধা। এই সহজলভ্যতা ইউকের পর্যটন শিল্পকেও অনেক সাহায্য করে, কারণ এতে আরও বেশি মানুষ সহজে ইউকেতে আসতে পারেন এবং এখানকার সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন।

কেন কিছু দেশ এই সুবিধা পায়?

কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য এই বিশেষ সুবিধা থাকার পেছনে অনেক কারণ জড়িত। এর মধ্যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক, আন্তর্জাতিক চুক্তি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সুসম্পর্ক অন্যতম। যেমন, কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অনেকে এই সুবিধা পান, কারণ তাদের সাথে ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন রয়েছে। আবার, উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর নাগরিকরা সাধারণত ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার পান কারণ তাদের অর্থনৈতিক অবস্থা সুদৃঢ় এবং অবৈধভাবে ইউকেতে থাকার প্রবণতা কম। ইউকে সরকার প্রতিটি দেশের ঝুঁকি প্রোফাইল, অভিবাসন নীতি এবং নিরাপত্তার বিষয়গুলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে তবেই এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তগুলো কেবল আজকের দিনের কথা ভেবে নেওয়া হয় না, বরং দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক এবং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটকেও বিবেচনা করা হয়।

কোন পাসপোর্টগুলো সরাসরি ব্রিটেনের দুয়ারে?

সত্যি কথা বলতে কি, আমার যখন প্রথমবার ইউকেতে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল, তখন ভিসার জন্য যে কী পরিমাণ ঝামেলা পোহাতে হয়েছিল, তা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই জানেন! কিন্তু এখন যখন দেখি কিছু দেশের মানুষ অনায়াসে ভিসা ছাড়াই সরাসরি ইউকেতে ঢুকতে পারছেন, তখন মনে হয়, ভাগ্যিস, এই তথ্যটা আমাদের কাছে আছে, যাতে আমরাও অন্তত জেনে রাখতে পারি!

এটি কেবল তথ্য নয়, এটি একটি আশার আলো তাদের জন্য, যারা যুক্তরাজ্যকে তাদের স্বপ্ন বা গন্তব্য হিসেবে দেখছেন। তালিকাটা বেশ বড়, তবে কিছু দেশ আছে যারা বিশেষভাবে পরিচিত এই সুবিধার জন্য।

Advertisement

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের নাগরিকরা

ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে কিছু পরিবর্তন এলেও, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলের (EEA) দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য এখনও ভিসা-মুক্ত ভ্রমণের সুবিধা বিদ্যমান। তারা ৬ মাস পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে পর্যটন বা সংক্ষিপ্ত ব্যবসার উদ্দেশ্যে থাকতে পারেন। এটি তাদের জন্য এক দারুণ সুযোগ, কারণ ইউরোপের দেশগুলো থেকে ইউকেতে যাতায়াত করা খুবই সহজ এবং দ্রুত। এই দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, সুইডেন, পোল্যান্ডের মতো আরও অনেক দেশ অন্তর্ভুক্ত। এই দেশগুলোর সঙ্গে ইউকের দীর্ঘদিনের গভীর সম্পর্ক এবং অবাধ যাতায়াতের ঐতিহ্য রয়েছে, যা এই সুবিধার মূল কারণ। তবে, ব্রেক্সিটের কারণে কিছু কাগজপত্র যেমন পাসপোর্ট নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়, যা আগে আইডি কার্ড দিয়েও সম্ভব ছিল।

কমনওয়েলথভুক্ত কিছু দেশ

কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং আরও অনেক দেশ রয়েছে যাদের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই যুক্তরাজ্যে ৬ মাস পর্যন্ত থাকতে পারেন। এই দেশগুলোর সঙ্গে ব্রিটেনের ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে এবং এই সম্পর্ক এই বিশেষ সুবিধার মাধ্যমে আরও মজবুত হয়। আমি নিজেই দেখেছি, আমার পরিচিত অস্ট্রেলিয়ান বন্ধুরা কী সহজেই ইউকেতে গিয়ে ঘুরে আসে, তাদের কেবল একটা বৈধ পাসপোর্ট থাকলেই হয়। এই দেশগুলোর মধ্যে প্রায়শই সাংস্কৃতিক এবং অর্থনৈতিক আদান-প্রদান হয়, যা এই ভিসা-মুক্ত সুবিধার একটি বড় কারণ।

অন্যান্য নির্বাচিত জাতিসমূহ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা কমনওয়েলথের বাইরেও কিছু দেশ আছে যারা এই সুবিধা ভোগ করে। যেমন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, ইসরায়েল এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিকরাও ভিসা ছাড়াই ৬ মাস পর্যন্ত ইউকেতে থাকতে পারেন। এই দেশগুলো সাধারণত অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ এবং ইউকের সাথে তাদের শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে। তাদের নাগরিকদের ঝুঁকি প্রোফাইল কম থাকায় এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই দেশগুলোর পাসপোর্টধারীরা ইউকেতে গেলে সাধারণত খুব বেশি প্রশ্ন বা সমস্যার সম্মুখীন হন না, তবে অবশ্যই তাদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ করতে প্রস্তুত থাকতে হয়।

ভিসা-মুক্ত ভ্রমণের শর্তাবলী: কিছু জরুরি কথা

ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ মানেই যে একেবারে কোনো নিয়ম নেই, এমনটা কিন্তু নয়! আমিও প্রথমে ভেবেছিলাম, আরে বাবা, ভিসা নেই মানে তো একদম ফ্রি-ফায়ার! কিন্তু না, ইউকেতে পা রাখার সময় ইমিগ্রেশন অফিসার কিছু প্রশ্ন করতেই পারেন। আমার এক পরিচিত ব্যক্তি তো একবার ভেবেছিলেন, ভিসা ছাড়াই ঢুকে পড়া যাবে, কিন্তু এয়ারপোর্টে গিয়ে টের পেলেন যে কিছু সাধারণ কাগজপত্র সাথে রাখা কতটা জরুরি। এই শর্তগুলো আসলে ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং নিরাপত্তাকে নিশ্চিত করে।

পর্যটন এবং সংক্ষিপ্ত ভিজিট

ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার সাধারণত পর্যটন, পরিবার বা বন্ধুদের সাথে দেখা করা, অথবা সংক্ষিপ্ত ব্যবসার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়। এর মানে হলো, আপনি ইউকেতে কাজ করতে বা পড়াশোনা করতে পারবেন না। এই ধরনের ভ্রমণের জন্য সর্বাধিক ৬ মাস পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। যদি আপনার উদ্দেশ্য কাজ করা বা দীর্ঘমেয়াদী পড়াশোনা হয়, তাহলে আপনাকে অবশ্যই নির্দিষ্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। ইমিগ্রেশন অফিসাররা প্রায়শই আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চান, তাই আপনার উত্তরগুলো যেন স্পষ্ট এবং সত্য হয়।

নির্দিষ্ট সময়ের সীমাবদ্ধতা

যদিও আপনি ভিসা ছাড়াই ৬ মাস পর্যন্ত থাকতে পারেন, তবে এটি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে যে এই সময়সীমা কঠোরভাবে মেনে চলতে হয়। এই সময় পার হয়ে গেলে অতিরিক্ত থাকা আইনত দণ্ডনীয় এবং এর ফলে ভবিষ্যতে ইউকেতে প্রবেশে সমস্যা হতে পারে। অনেক সময় ভুল করে অনেকে ভাবেন যে, ভিসা না লাগলে হয়তো সময়টা বাড়ানো যায়, কিন্তু এই ভুলটা মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। তাই, নিজের ফেরার টিকিট আগে থেকেই নিশ্চিত করে রাখাটা বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রবেশাধিকারে ইমিগ্রেশন অফিসারের ভূমিকা

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনার প্রবেশাধিকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত একজন ইমিগ্রেশন অফিসারের হাতে থাকে। আপনার যদি মনে হয় যে ভিসা না থাকায় আপনি একদম নিরাপদ, তাহলে সেটা ভুল ধারণা। বিমানবন্দরে নেমে একজন ইমিগ্রেশন অফিসার আপনার পাসপোর্ট, ফেরার টিকিট, থাকার ব্যবস্থা এবং ইউকেতে থাকার জন্য আপনার কাছে পর্যাপ্ত অর্থ আছে কিনা, তা পরীক্ষা করতে পারেন। তারা আপনাকে আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারেন। তাই, তাদের সামনে আপনার আচরণ স্বচ্ছ এবং সহযোগিতামূলক হতে হবে। আমার এক সহকর্মী এই বিষয়টা প্রথমে পাত্তা দেননি, পরে তাকে বেশ কিছুক্ষণ এয়ারপোর্টে আটকে থাকতে হয়েছিল।

দীর্ঘস্থায়ী থাকার স্বপ্ন: ভিসা-মুক্ত প্রবেশ কি যথেষ্ট?

Advertisement

আমার নিজের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, অনেকেই মনে করেন যে একবার ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার পেয়ে গেলেই বোধহয় ইউকেতে লম্বা সময় থাকার একটা সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু এই ধারণাটা মোটেও সঠিক নয়। আমি যখন প্রথমবার এই বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনা শুরু করি, তখন বুঝতে পারি যে, স্বল্পমেয়াদী প্রবেশাধিকার আর দীর্ঘমেয়াদী থাকার পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি জিনিস।

কর্মসংস্থান ও পড়াশোনার জন্য ভিন্ন নিয়ম

যদি আপনার লক্ষ্য ইউকেতে কাজ করা বা কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা হয়, তাহলে ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার কোনো কাজেই আসবে না। কর্মসংস্থান বা পড়াশোনার জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির ভিসা (যেমন – Skilled Worker visa বা Student visa) আবেদন করতে হবে। ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার শুধুমাত্র পর্যটন বা সংক্ষিপ্ত ব্যবসার মতো স্বল্পমেয়াদী কার্যক্রমের জন্য। তাই, ইউকেতে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন বা দীর্ঘমেয়াদী অবস্থানের পরিকল্পনা থাকলে ভিসার নিয়মাবলী সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে তবেই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

ভিসা-মুক্ত থাকার মেয়াদ বাড়ানো অসম্ভব

ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকারের মাধ্যমে ইউকেতে আসার পর আপনি সাধারণত আপনার থাকার মেয়াদ বাড়াতে পারবেন না। ৬ মাস শেষ হওয়ার আগেই আপনাকে ইউকে ত্যাগ করতে হবে। কেউ যদি এই নিয়ম লঙ্ঘন করে, তাহলে তাকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে গণ্য করা হয় এবং ভবিষ্যতে ইউকে বা অন্যান্য শেনজেনভুক্ত দেশে প্রবেশে মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তাই, আপনার ভ্রমণের সময়সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই সুবিধাটা কতটা কাজে লাগাতে পারি আমরা?

ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ একটা দারুণ সুবিধা, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু কীভাবে এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করা যায়, সেটাই আসল কথা। আমি নিজে যখন বিভিন্ন ব্লগে ইউকে ভ্রমণ নিয়ে লিখি, তখন প্রায়ই দেখি মানুষ এই বিষয়ে জানতে চায়। এই সুবিধাটা কাজে লাগিয়ে আপনি কী কী করতে পারেন, তার একটা ধারণা দিচ্ছি।

ছুটি কাটানো ও পরিবার ভিজিট

যদি আপনার পরিবার বা বন্ধুরা ইউকেতে থাকেন এবং আপনার দেশের জন্য ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার থাকে, তাহলে তাদের সাথে দেখা করার জন্য এটা একটা অসাধারণ সুযোগ। আপনি ক্রিসমাসে লন্ডনের ঝলমলে আলোকসজ্জা দেখতে যেতে পারেন, স্কটল্যান্ডের হাইল্যান্ডের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন, অথবা ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক ক্যাসেলগুলো ঘুরে আসতে পারেন। আমি নিজেই দেখেছি, আমার পরিচিত অনেকেই এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তাদের ইউকে প্রবাসী আত্মীয়দের সাথে নিয়মিত দেখা করতে পারছেন, যা ভিসার ঝামেলার কারণে আগে বেশ কঠিন ছিল।

ব্যবসায়িক সংক্ষিপ্ত ভ্রমণ

যারা ব্যবসা করেন, তাদের জন্য ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার একটি আশীর্বাদ। কোনো মিটিং বা কনফারেন্সে যোগ দেওয়ার জন্য যখন-তখন ইউকেতে যাওয়াটা অনেক সহজ হয়ে যায়। এর ফলে ব্যবসায়িক যোগাযোগ রক্ষা করা এবং নতুন সুযোগ অন্বেষণ করা অনেক মসৃণ হয়। এই সুবিধা ছোট এবং মাঝারি উদ্যোগগুলোর জন্য বিশেষভাবে উপকারী, কারণ এটি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের পথকে সহজ করে তোলে।

ভিসা-মুক্ত হলেও সাবধান! কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

আমার নিজের একটা কড়া নিয়ম আছে – সব সময় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা! ভিসা না লাগুক বা লাগুক, প্রস্তুতিটা সবসময়ই দরকার। যখন আমার একজন বন্ধু প্রথমবার ভিসা ছাড়া ইউকেতে গিয়েছিল, তখন ভেবেছিল সব তো সেট করা আছে, কিন্তু এয়ারপোর্টে একটা ছোট্ট প্রশ্নে সে বেশ ভয় পেয়ে গিয়েছিল। তাই এই বিষয়ে কিছু টিপস সব সময় মনে রাখা উচিত।

Advertisement

ফেরত টিকিট ও থাকার প্রমাণ

বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অফিসার আপনার ফেরার টিকিট দেখতে চাইতে পারেন। এর কারণ হলো, তারা নিশ্চিত হতে চান যে আপনি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ইউকে ত্যাগ করবেন। এছাড়াও, আপনার ইউকেতে থাকার ব্যবস্থা (যেমন – হোটেলের বুকিং বা যেখানে থাকবেন তার ঠিকানা) সম্পর্কে তথ্য থাকতে হবে। এই ডকুমেন্টগুলো আপনার কাছে প্রস্তুত থাকলে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়াটা অনেক সহজ হয়ে যায়।

যথেষ্ট অর্থ প্রদর্শনের আবশ্যকতা

ইমিগ্রেশন অফিসাররা নিশ্চিত হতে চান যে আপনার ইউকেতে থাকার সময় পর্যাপ্ত আর্থিক সংস্থান আছে, যাতে আপনি সরকারি সাহায্যের উপর নির্ভরশীল না হন। আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ক্রেডিট কার্ডের তথ্য চাইতে পারেন। আপনি যে আপনার ভ্রমণের খরচ নিজেই বহন করতে পারবেন, তার প্রমাণ দিতে প্রস্তুত থাকুন। এই বিষয়গুলো আসলে আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং সক্ষমতা যাচাই করার জন্যই চাওয়া হয়।

সঠিক আচরণের গুরুত্ব

ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের সাথে সব সময় বিনয়ী এবং সহযোগিতামূলক আচরণ করা উচিত। তাদের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর সৎ এবং স্পষ্ট ভাবে দিন। যদি আপনি উদ্বিগ্ন বা বিভ্রান্ত হন, তাহলে তা জানাতে দ্বিধা করবেন না। আপনার পাসপোর্ট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেন সহজেই হাতের কাছে থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক বা তর্ক এড়িয়ে চলা উচিত।

ভিসা-মুক্ত ভ্রমণের আনন্দ: আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা

যদিও আমি একজন বাংলাদেশী নাগরিক হিসেবে ভিসা ছাড়া ইউকেতে যেতে পারি না, আমার একজন খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু আছে যার পাসপোর্ট ইউকেতে ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার দেয়। তার অভিজ্ঞতাটা এতটাই মন ভালো করা যে, আমার মনে হয় আপনাদের সাথে সেটা ভাগ করে নিলে আপনারা আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবেন। আমি যখন তার কাছ থেকে শুনেছি সে কী সহজে লন্ডনে পা রেখেছিল, তখন আমার সত্যিই খুব আনন্দ হয়েছিল।

লন্ডনের স্মৃতিমধুর সকাল

আমার বন্ধুটি লন্ডনে নেমেছিল এক ঝকঝকে সকালে। সে আমাকে বলেছিল, ইমিগ্রেশনে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই তার সব কাজ শেষ হয়ে গিয়েছিল। অন্যান্য যাত্রীদের যখন ভিসার জটিলতা নিয়ে নানা প্রশ্ন করা হচ্ছিল, সে তখন হাসি মুখে নিজের জিনিসপত্র নিয়ে বেরিয়ে আসছিল। সে আমাকে বলেছিল, ‘ভিসা না থাকার এই যে মানসিক শান্তি, এটা আসলে অন্যরকম এক অভিজ্ঞতা!’ সে তারপর টিউবে করে সরাসরি তার হোস্টেড অ্যাপার্টমেন্টে চলে গিয়েছিল এবং দিনের বাকিটা সময় অক্সফোর্ড স্ট্রিটে কাটিয়েছে, যা নাকি তার কাছে এক স্বপ্নের মতো লেগেছিল। সে যে সহজে সবকিছু উপভোগ করতে পারছিল, সেটা কেবল ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকারের জন্যই সম্ভব হয়েছে।

গ্রামাঞ্চলে নতুন দিগন্তের অন্বেষণ

লন্ডনে কয়েকদিন কাটানোর পর সে ইউকের গ্রামাঞ্চল ঘুরে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আমার বন্ধুটি গ্রিনউইচের সবুজ বিস্তীর্ণ এলাকায় হাঁটার সময় আমাকে ফোন করে জানিয়েছিল, গ্রামের শান্ত পরিবেশ আর মনোমুগ্ধকর দৃশ্যগুলো নাকি তার মনকে একদম শান্ত করে দিয়েছিল। সে আমাকে বলেছিল, ‘এই স্বাধীনতাটা না থাকলে হয়তো এত সহজে আমার পক্ষে ইউকের এমন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা সম্ভব হতো না।’ সে আরও বলেছিল, ভিসা-মুক্ত ভ্রমণের কারণে তার মনে কোনো চাপ ছিল না, ফলে সে পুরো ট্রিপটাকেই নির্ভেজাল আনন্দ হিসেবে উপভোগ করতে পেরেছিল।

ইউকেতে পা রাখার আগে আর কী কী জানা দরকার?

এবার আসি কিছু বাড়তি কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যে। ভিসা-মুক্ত ভ্রমণ সহজ হলেও, কিছু জিনিস জেনে রাখা আপনার যাত্রাটাকে আরও মসৃণ করে তুলবে। আমি নিজে যখন কোথাও যাই, তখন এই বিষয়গুলো নিয়ে খুব সতর্ক থাকি।

স্বাস্থ্য বীমা এবং জরুরি পরিষেবা

ইউকেতে ভ্রমণের সময় একটি ভালো মানের ভ্রমণ স্বাস্থ্য বীমা থাকা খুবই জরুরি। যদিও কিছু দেশের নাগরিকদের জন্য NHS-এর জরুরি পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ থাকে, তবুও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বীমা থাকলে আপনি যে কোনো অপ্রত্যাশিত মেডিকেল খরচের হাত থেকে বাঁচতে পারেন। হঠাৎ অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বীমা আপনাকে বিশাল আর্থিক চাপ থেকে রক্ষা করবে।

সাংস্কৃতিক পার্থক্য ও স্থানীয় নিয়মকানুন

ইউকেতে আপনার দেশের সংস্কৃতির সাথে কিছু পার্থক্য দেখা যেতে পারে। স্থানীয়দের প্রতি সম্মান দেখানো এবং তাদের নিয়মকানুন মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যেমন, লাইনে দাঁড়ানো (Queueing), টিপিং প্রথা, অথবা পাব কালচার – এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আগে থেকে একটু জেনে রাখা ভালো। এতে আপনি স্থানীয়দের সাথে আরও ভালোভাবে মিশতে পারবেন এবং আপনার ভ্রমণ অভিজ্ঞতাও আরও আনন্দময় হবে।এখানে সেই দেশগুলোর একটি তালিকা দেওয়া হলো যাদের নাগরিকরা সাধারণত ভিসা ছাড়াই যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ করতে পারেন:

দেশ ক্যাটাগরি সর্বাধিক থাকার সময়
অস্ট্রেলিয়া কমনওয়েলথ ৬ মাস
কানাডা কমনওয়েলথ ৬ মাস
নিউজিল্যান্ড কমনওয়েলথ ৬ মাস
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য ৬ মাস
জাপান অন্যান্য ৬ মাস
সিঙ্গাপুর কমনওয়েলথ ৬ মাস
দক্ষিণ কোরিয়া অন্যান্য ৬ মাস
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমূহ ইইউ/ইইএ ৬ মাস
Advertisement

글কে বিদায়

ভিসা-মুক্ত যুক্তরাজ্য ভ্রমণ নিঃসন্দেহে একটি দারুণ সুযোগ, যা কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের জন্য স্বপ্নের মতো। আমার নিজের অভিজ্ঞতা আর বন্ধুদের গল্প শুনে আমি উপলব্ধি করেছি, ভিসার জটিলতা এড়িয়ে সরাসরি পছন্দের গন্তব্যে পৌঁছানোটা কতটা স্বস্তিদায়ক হতে পারে। এটা শুধু সময় আর অর্থের সাশ্রয় নয়, বরং ভ্রমণের এক নতুন দিগন্ত খুলে দেয়, যেখানে আপনি নিজের মতো করে সংস্কৃতি ও সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। এই সুবিধাটি যাদের জন্য আছে, তাদের জীবনটা যেন খানিকটা সহজ হয়ে যায়, কারণ অযাচিত আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয় না। তবে, এই স্বাধীনতার অর্থ এই নয় যে সবকিছু অবাধ!

আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যখন আমরা এই ধরনের সুযোগ পাই, তখন আমাদের উচিত প্রতিটি নিয়ম মেনে চলা এবং দায়িত্বশীল পর্যটক হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করা। কারণ আপনার এই ইতিবাচক অভিজ্ঞতা অন্যদের জন্যও পথ খুলে দিতে পারে, আর নেতিবাচক অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ সুযোগগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই, আসুন, এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করি এবং ইউকেতে এক চমৎকার সময় কাটাই, যা আপনার স্মৃতিতে চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।

আরও কিছু জরুরি কথা

এখানে কিছু বিষয় উল্লেখ করা হলো যা আপনার যুক্তরাজ্য ভ্রমণের আগে জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি:

১. ভিসা-মুক্ত প্রবেশ মানেই কর্মসংস্থান বা পড়াশোনা নয়: মনে রাখবেন, ভিসা ছাড়া আপনি শুধুমাত্র পর্যটন, সংক্ষিপ্ত ব্যবসায়িক কাজ বা বন্ধু-পরিবারের সাথে দেখা করতে পারবেন। ইউকেতে কাজ করা বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য আপনাকে নির্দিষ্ট ভিসার আবেদন করতে হবে। এই বিষয়ে কোনো ভুল ধারণা থাকলে বিপদে পড়তে পারেন।

২. ফিরতি টিকিট ও আবাসনের প্রমাণপত্র: বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন অফিসার আপনার কাছে ফিরতি টিকিট এবং আপনি কোথায় থাকবেন (হোটেল বুকিং, বন্ধুর ঠিকানা ইত্যাদি) তার প্রমাণ চাইতে পারেন। এই ডকুমেন্টগুলো হাতের কাছে প্রস্তুত রাখা আপনার প্রবেশ প্রক্রিয়াকে মসৃণ করবে।

৩. পর্যাপ্ত আর্থিক সঙ্গতি প্রদর্শন: ইউকেতে থাকাকালীন আপনার দৈনন্দিন খরচ চালানোর জন্য পর্যাপ্ত অর্থ আছে কিনা, তা ইমিগ্রেশন অফিসাররা নিশ্চিত হতে চাইবেন। ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্রেডিট কার্ডের তথ্য অথবা পর্যাপ্ত নগদ টাকা সাথে রাখতে পারেন। আপনি যেন সরকারি সাহায্যের উপর নির্ভরশীল না হন, এটাই তারা দেখতে চান।

৪. ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন: সবসময় ইমিগ্রেশন অফিসারদের প্রতি বিনয়ী ও সহযোগিতামূলক আচরণ করুন। তাদের প্রশ্নের উত্তর সৎ ও স্পষ্ট ভাবে দিন। মিথ্যা তথ্য দেওয়া বা তর্ক করা পরিস্থিতি জটিল করতে পারে। তারা তাদের কাজ করছেন, তাই তাদের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখাটা জরুরি।

৫. ভ্রমণ স্বাস্থ্য বীমা বাধ্যতামূলক নয়, তবে আবশ্যক: যদিও কিছু দেশের নাগরিকরা NHS-এর জরুরি পরিষেবা পেতে পারেন, ব্যক্তিগত ভ্রমণ স্বাস্থ্য বীমা থাকলে আপনি যেকোনো অপ্রত্যাশিত মেডিকেল খরচ থেকে সুরক্ষিত থাকবেন। হঠাৎ অসুস্থতা বা দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে বীমা আপনাকে বড় আর্থিক চাপ থেকে বাঁচায়।

Advertisement

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির সারসংক্ষেপ

ভিসা-মুক্ত যুক্তরাজ্য ভ্রমণের সুযোগটি একটি বিশাল সুবিধা, যা সঠিকভাবে ব্যবহার করলে আপনার ভ্রমণ অভিজ্ঞতাকে অবিস্মরণীয় করে তুলতে পারে। এটি শুধু একটি সুযোগ নয়, বরং একটি দায়িত্বও বটে, কারণ আপনার প্রতিটি পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আপনার এবং আপনার দেশের অন্যান্য নাগরিকদের জন্য পথ তৈরি করতে পারে। আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং গবেষণার উপর ভিত্তি করে বলতে পারি, এই সুবিধা পাওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনার কোনো প্রস্তুতি লাগবে না। বরং, ভিসা না লাগলেও ফিরতি টিকিট, থাকার প্রমাণ, পর্যাপ্ত অর্থ এবং ভ্রমণের উদ্দেশ্যের স্বচ্ছতা – এই বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইমিগ্রেশন অফিসারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত, তাই তাদের সাথে বিনয়ী আচরণ করা অপরিহার্য। আশা করি, এই বিস্তারিত তথ্য এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাগুলো আপনাকে আপনার স্বপ্নের ইউকে ভ্রমণ সফল করতে সাহায্য করবে। মনে রাখবেন, সঠিক প্রস্তুতি এবং সচেতনতা আপনার যাত্রাকে সহজ ও আনন্দময় করে তোলে। তাই আর দেরি না করে, আপনার ব্যাগ গোছান এবং এই দুর্দান্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার করুন!

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖

প্র: কোন কোন দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই ইউকে ভ্রমণ করতে পারেন, একটু বিস্তারিত বলবেন কি?

উ: এই প্রশ্নটা আমার ব্লগে সবচেয়ে বেশি আসে, বিশ্বাস করুন! অনেকেই ভাবেন ইউকে মানেই ভিসার লম্বা লাইন আর হাজারো কাগজপত্র। কিন্তু একটা বিশাল স্বস্তির খবর হলো, পৃথিবীর প্রায় ১০০টিরও বেশি দেশ আছে যাদের পাসপোর্টধারীরা শর্ট-টার্ম ভিজিটের জন্য ভিসা ছাড়াই ইউকে-তে ঢুকতে পারেন। আমার অভিজ্ঞতা বলে, এই দেশগুলোর তালিকা সবসময় আপডেটেড থাকে, তাই যাত্রার আগে হোম অফিসের ওয়েবসাইট একবার দেখে নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ।মূলত, এই দেশগুলোকে দুটো ভাগে ভাগ করা যায়:
১.
ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) এবং ইউরোপীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEA) এর সদস্য দেশগুলো: ব্রেক্সিট-এর পর যদিও অনেক নিয়ম বদলেছে, তবুও এই দেশগুলোর নাগরিকরা (যেমন – জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, সুইডেন, ইত্যাদি) সাধারণত ভিসা ছাড়াই পর্যটন বা ব্যবসার উদ্দেশ্যে ইউকে-তে প্রবেশ করতে পারেন। তবে, এখন তাদের ইউকেতে বসবাসের বা কাজ করার জন্য ভিসার প্রয়োজন হয়।২.
কমনওয়েলথ এবং অন্যান্য নির্দিষ্ট দেশ: কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (USA), জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, ইসরায়েল, ইত্যাদি দেশগুলোর নাগরিকরাও ভিসা ছাড়াই ইউকে-তে ঘুরতে যেতে পারেন। এছাড়াও, কিছু ক্যারিবিয়ান দেশ যেমন বার্বাডোস, জ্যামাইকা (কিছু শর্তসাপেক্ষে), এবং অন্যান্য কিছু দেশও এই সুবিধার আওতায় পড়ে।আমি যখন প্রথম ইউকেতে আসি, আমার এক বন্ধু মালয়েশিয়া থেকে এসেছিল। সে আমাকে বলেছিল, “তোর ভিসা নিয়ে যত ঝক্কি পোহাতে হলো, আমার তো শুধু এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়েই সোজা গন্তব্যে!” শুনে আমি একটু অবাকই হয়েছিলাম। আসলে, এই সুবিধাগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকলে আমরা অনেকেই অযথা দুশ্চিন্তা করি। মনে রাখবেন, এই তালিকা বিশাল এবং ক্রমাগত পরিবর্তনশীল, তাই আপনার দেশের নাম এই তালিকায় আছে কিনা, সেটা অবশ্যই ইউকে সরকারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে নিশ্চিত করে নেবেন। কোনো ভুল তথ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করাটা কিন্তু আপনার পুরো ভ্রমণটাই নষ্ট করে দিতে পারে। আমার পরামর্শ হলো, দুবার যাচাই করে নিন!

প্র: ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকারের জন্য কি কোনো বিশেষ শর্ত বা নথিপত্রের প্রয়োজন হয়, এমনকি যদি আমার ভিসা না লাগে তবুও?

উ: দারুণ একটা প্রশ্ন করেছেন! আমি যখন প্রথম এই বিষয়গুলো নিয়ে ঘাটাঘাটি করছিলাম, আমারও মনে হয়েছিল, “ভিসা লাগছে না মানে তো সব ফুর্তি!” কিন্তু বাস্তবটা কিন্তু একটু অন্যরকম। হ্যাঁ, আপনার দেশের নাগরিক হিসেবে ভিসা না লাগলেও, ইউকে বর্ডারে কিন্তু কিছু জিনিসপত্র দেখাতে হতে পারে, এবং কিছু শর্ত আপনাকে পূরণ করতেই হবে। আমার বহু বছরের অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, এই ধাপগুলো ভালোভাবে না জানলে অনেক সময় ছোটখাটো সমস্যাতেও পড়তে হয়।১.
বৈধ পাসপোর্ট: এটা তো বলাই বাহুল্য! আপনার পাসপোর্টটির মেয়াদ ইউকে-তে আপনার পরিকল্পিত থাকার সময়ের অন্তত ৬ মাস বেশি থাকতে হবে। আমার এক পরিচিতা একবার ইউকে এসে তার পাসপোর্টের মেয়াদ নিয়ে একটু বিপদে পড়েছিল, কারণ সে খেয়ালই করেনি মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে। তাই, এই ভুলটা ভুলেও করবেন না।২.
ফ্লাইটের রিটার্ন টিকিট: ইউকে বর্ডার অফিসাররা নিশ্চিত হতে চাইবেন যে আপনি তাদের দেশে স্থায়ী হওয়ার কোনো মতলব নিয়ে আসছেন না। তাই, আপনার ফেরত যাওয়ার টিকিটটি অবশ্যই দেখাতে হবে। এটা প্রমাণ করে যে আপনি একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আসছেন এবং আবার ফিরে যাবেন।৩.
আবাসনের প্রমাণ: আপনি ইউকে-তে কোথায় থাকবেন, তার প্রমাণপত্র (যেমন – হোটেলের বুকিং, বন্ধুর বাড়ির ঠিকানা, ইত্যাদি) অবশ্যই সাথে রাখবেন। আমার এক পাঠক একবার লন্ডনে বন্ধুর কাছে এসেছিল, কিন্তু বন্ধুর নাম-ঠিকানা ঠিকমতো বলতে না পারায় বর্ডারে তাকে অনেকক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এই প্রস্তুতিটা খুব জরুরি।৪.
যথেষ্ট আর্থিক সংগতি: ইউকে-তে থাকার সময় আপনার নিজের খরচ চালানোর মতো পর্যাপ্ত টাকা আছে কিনা, সেটা প্রমাণ করতে হতে পারে। এর জন্য আপনি আপনার ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ক্রেডিট কার্ড, বা ভ্রমণকারী চেকের মতো জিনিসপত্র দেখাতে পারেন। এটা কিন্তু খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়, কারণ ইউকে সরকার চায় না কেউ এসে তাদের দেশের বোঝা হোক।৫.
ভ্রমণের উদ্দেশ্য: আপনাকে আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে বলতে হবে (যেমন – পর্যটন, পরিবার/বন্ধুদের সাথে দেখা করা, সংক্ষিপ্ত ব্যবসা মিটিং, ইত্যাদি)। আমি যখন প্রথমবার ইউকে গিয়েছিলাম, আমার কাছে আমার ভ্রমণের একটি সংক্ষিপ্ত পরিকল্পনা ছিল, যা দেখাতে আমার সুবিধা হয়েছিল।৬.
ইউকে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ETA): এটা একটা নতুন জিনিস, যা ২০২৪ সাল থেকে ধাপে ধাপে চালু হচ্ছে। ইউকে সরকার চাইছে, যেসব দেশের নাগরিকরা ভিসা-মুক্ত প্রবেশ করেন, তারাও যেন ভ্রমণের আগে অনলাইনে একটি ছোট অ্যাপ্লিকেশন (ETA) পূরণ করেন। এটা অনেকটা আমেরিকার ESTA-এর মতো। এটি এখনো সবার জন্য বাধ্যতামূলক না হলেও, ভবিষ্যতে হতে পারে। তাই, যাত্রার আগে এটা সম্পর্কে জেনে নেওয়াটা বুদ্ধিমানের কাজ। আমার মনে হচ্ছে, এটি আপনার যাত্রা আরও মসৃণ করতে সাহায্য করবে, কারণ আগে থেকেই আপনার তথ্য সরকারের কাছে থাকবে।মোটকথা, ভিসা না লাগলেও প্রস্তুতিতে কোনো কমতি রাখবেন না। বর্ডার অফিসারদের মন জয় করাটা আপনার ভ্রমণের প্রথম ধাপ।

প্র: ভিসা-মুক্ত থাকার সময় ইউকে-তে আমি কী কী কাজ করতে পারব এবং কী কী করতে পারব না, সে বিষয়ে কিছু ধারণা দেবেন কি?

উ: বাহ, এটা তো একদম কাজের কথা! অনেকে ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার মানেই ভাবেন যে সবকিছু করার স্বাধীনতা আছে, কিন্তু এটা কিন্তু একদম ভুল ধারণা। ইউকেতে ভিসা-মুক্ত থাকার একটা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে, এবং সেই উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুত হলে আপনি কিন্তু মারাত্মক সমস্যায় পড়তে পারেন, এমনকি ভবিষ্যতে ইউকে-তে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে। আমার অভিজ্ঞতা বলে, এই নিয়মগুলো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখাটা খুব, খুব জরুরি।আপনি যা যা করতে পারবেন (সাধারণত):১.
পর্যটন: এটাই প্রধান উদ্দেশ্য! ইউকে-এর ঐতিহাসিক স্থান, জাদুঘর, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। লন্ডনের বাকিংহাম প্যালেস থেকে শুরু করে স্কটল্যান্ডের পাহাড় – সব আপনার জন্য উন্মুক্ত। আমি নিজে যখন বিভিন্ন শহর ঘুরে দেখেছি, সেখানকার সংস্কৃতির সাথে মিশেছি, তখন মনে হয়েছে এটাই সত্যিকারের ভ্রমণ।২.
পরিবার ও বন্ধুদের সাথে দেখা করা: ইউকে-তে থাকা আপনার আত্মীয়-স্বজনের সাথে দেখা করতে পারবেন, তাদের বাড়িতে থাকতে পারবেন। আমার বহু পাঠক এই কারণেই ইউকেতে আসেন।৩.
সংক্ষিপ্ত ব্যবসায়িক কার্যক্রম: কিছু মিটিং, কনফারেন্স বা প্রশিক্ষণে অংশ নিতে পারবেন, যা আপনার মূল দেশের কাজের সাথে সম্পর্কিত। তবে, ইউকে-তে কোনো বেতনভুক্ত কাজ করা যাবে না। আমি যখন প্রথমবার একটি আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশ নিতে এসেছিলাম, তখন এই বিষয়টি খুব স্পষ্ট ছিল।৪.
সংক্ষিপ্ত কোর্স বা পড়াশোনা: সর্বোচ্চ ৩০ দিন মেয়াদের কোনো সংক্ষিপ্ত কোর্স বা শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন, যা আপনার মূল পেশা বা পড়াশোনার সাথে সম্পর্কিত।৫.
যেকোনো সামাজিক বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ: আপনি কোনো কনসার্ট, খেলাধুলা বা উৎসব দেখতে যেতে পারবেন।আপনি যা যা করতে পারবেন না (গুরুত্বপূর্ণ নিষেধাজ্ঞা):১.
ইউকে-তে চাকরি করা বা কাজ খোঁজা: এটাই সবচেয়ে বড় নিষেধাজ্ঞা। আপনি কোনোভাবেই ইউকে-তে বেতনভুক্ত বা অবৈতনিক (volunteer work কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম) কাজ করতে পারবেন না। আমার এক পরিচিতা একবার ভেবেছিল ভিসা-মুক্ত এসে কোনো একটা পার্ট-টাইম কাজ খুঁজে নেবে, কিন্তু বর্ডারে অফিসারদের প্রশ্নের উত্তরে সে প্রায় ধরা পড়ে যাচ্ছিল।২.
ইউকে-তে কোনো ব্যবসা শুরু করা বা স্ব-কর্মসংস্থান করা: আপনি নিজের কোনো ব্যবসা স্থাপন করতে পারবেন না বা ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করতে পারবেন না।৩. সরকারি তহবিল (Public Funds) থেকে কোনো সুবিধা গ্রহণ করা: আপনি ইউকে সরকারের কোনো আর্থিক সুবিধা বা সহায়তা দাবি করতে পারবেন না।৪.
বিয়ে করা বা সিভিল পার্টনারশিপে প্রবেশ করা (কিছু শর্তসাপেক্ষে): যদিও বিশেষ ‘ম্যারেজ ভিজিটর ভিসা’ আছে, ভিসা-মুক্ত হয়ে সাধারণত বিয়ে করার উদ্দেশ্যে আসা যায় না। যদি আপনি ভিসা-মুক্তভাবে আসেন, তাহলে আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে আপনি ইউকেতে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে আসেননি।৫.
দীর্ঘমেয়াদী পড়াশোনা: ৩০ দিনের বেশি মেয়াদের কোনো কোর্স বা ডিগ্রি প্রোগ্রামে ভর্তি হতে পারবেন না।৬. স্থায়ীভাবে বসবাসের চেষ্টা করা: ভিসা-মুক্ত প্রবেশের মূল উদ্দেশ্যই হলো স্বল্প সময়ের জন্য আসা এবং ফিরে যাওয়া। আপনি কোনোভাবেই ইউকে-তে স্থায়ীভাবে বসবাস করার চেষ্টা করতে পারবেন না।সংক্ষেপে, ভিসা-মুক্ত প্রবেশের মানে হলো আপনি একজন ‘ভিজিটর’। একজন অতিথি হিসেবে ইউকে-এর সৌন্দর্য উপভোগ করুন, অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করুন, কিন্তু নিয়ম ভাঙার চেষ্টা ভুলেও করবেন না। এটা আপনার বর্তমান ভ্রমণকে যেমন মসৃণ রাখবে, তেমনি ভবিষ্যতের ইউকে ভ্রমণের পথও খোলা রাখবে। আমার বিশ্বাস, এই তথ্যগুলো আপনার ইউকে ভ্রমণের পরিকল্পনাকে আরও নির্ভুল এবং আনন্দময় করে তুলবে। মনে রাখবেন, সঠিক তথ্যই নিরাপদ ভ্রমণের চাবিকাঠি!

📚 তথ্যসূত্র